২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষ চীনে সয়াবিনের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস

চীনে ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে সয়াবিনের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস (এফএএস)।

চীনে ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে সয়াবিনের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস (এফএএস)। তবে এ সময় কমতে পারে ভোজ্য তেলবীজটির উৎপাদন। ফলে আগামী বিপণন বর্ষে সয়াবিন আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। খবর ওয়ার্ল্ড-গ্রেইনডটকম।

সম্প্রতি গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (জিএআইএন) শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এফএএস। প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে অভ্যন্তরীণভাবে চীনের মোট সয়াবিন ব্যবহার ১২ কোটি ৪৪ লাখ টন হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, আগের বিপণন বর্ষে যা ছিল ১২ কোটি ২০ লাখ টন। এছাড়া এ সময় চীনে সয়াবিন প্রক্রিয়াকরণের পরিমাণ হতে পারে ১০ কোটি ১০ লাখ টন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সয়াবিন ক্রেতা দেশ চীন। এফএএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটি ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে ১০ কোটি ৬০ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করতে পারে। এটি আগের বিপণন বর্ষের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি। এ সময় দেশটিতে উৎপাদন কিছুটা কমে ১ কোটি ৯৮ লাখ টনে নেমে যেতে পারে, আগের বিপণন বর্ষে যা ছিল ১ কোটি ৯৯ লাখ টন।

এদিকে ব্রাজিল থেকে রফতানি বিলম্ব হওয়া ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে চীনে সয়াবিনের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছিল। ফলে দেশটি বেশ কিছুদিন কয়েকটি সয়াবিন মিলের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। তাই চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (এপ্রিল-জুন) দেশটিতে ভোজ্য তেলবীজটির আমদানি বেড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে। পাঁচটি গবেষণা ও বাণিজ্য সংস্থা এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশটি এপ্রিল-জুন পর্যন্ত রেকর্ড ৩ কোটি ১৩ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করতে পারে। এটি গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের এপ্রিল-জুন পর্যন্ত চীন মোট ২ কোটি ৯৯ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করেছিল।

আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর স্টোনএক্সের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট চেং কাং ওয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কম আমদানি ও ব্রাজিলে জমি থেকে ফসল তুলতে দেরি হওয়ায় চীনে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। তবে চীনের তেলবীজ প্রক্রিয়াকরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্রাজিল থেকে আমদানি বাড়িয়েছে। কারণ দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সয়াবিন উৎপাদনকারী দেশ। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার এ দেশে পণ্যটির দাম অন্যান্য দেশের তুলনায় কম।

আরও